ডিজিটাল ক্যামেরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডিজিটাল ক্যামেরা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১১

ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল


ভূমিকা - কমপোজিশন - এক্সপোজার (Shutter Speeds, Apertures ISO) - Contrasts and colours - শেষ কথা


ডিজিটাল ক্যামেরার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ফিচার/ফাংশন সম্পর্কীত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভালো ছবি তোলার কিছু বেসিক কলা-কৌশল নিয়ে এখানে আলোচনা করব। ক্যামেরার অটোমুড/সীনমুড দিয়ে বিভিন্ন টেকনিক্যাল সেটিংয়ের সিদ্ধান্ত ক্যামেরার উপর ছেড়ে দেয়া গেলেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে যা ফটোগ্রাফারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে ফটোগ্রাফারের জ্ঞান, পছন্দ, রুচি, ফ্যান্টাসি ও অভিজ্ঞতার উপর। যেমন ফটোর কম্পোজ, দূরত্ব, এঙ্গেল, পজিশন, ভিউপয়েন্ট, পোস, ওরিয়েন্টেশন, ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি। তাই সবক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন কোনটি সঠিক কোনটি ভুল।

কমপোজিশন
শট নেওয়ার জন্য কোন সাবজেক্ট নির্বাচন করার পর ভালো ফটোর জন্য আরো কিছু বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়। যেমন সাবজেক্টটির উপরে, নিচে, ডানে, বামে কতটুকু এরিয়া ফ্রেমে আসবে, কোন পাশকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রাখা হবে, সাবজেক্টটর অবস্থান ফ্রেমের কোন জায়গায় হবে ইত্যাদি। কম্পোজ ফটোগ্রফির খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ ফটো তোলার পর গ্রাফিক প্রোগ্রামে এডিট করে কম্পোজের সেটিংগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। কম্পোজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নে আলোচনা করা হল:

১। ইমেজে সাবজেক্টের অবস্থান: আমরা সাধারণত সাবজেক্টকে ভিউ ফাইন্ডারে প্রদর্শিত ফ্রেমের মাঝখানে রেখে সরাসরি সামনের থেকে ফটো তুলতে অভ্যস্থ। এতে ছবি হয় দ্বিমাত্রিক এবং আকর্ষণহীন। শট নেওয়ার আগে ফোকাস এরিয়াকে আপাতঃদৃষ্টিতে অনুভূমিক (horizontally) ও খাড়াভাবে (vertically) তিন অংশে বিভক্ত করুন।

সাবজেক্টকে লাইনগুলোর যে কোন ইন্টারসেকশন পয়েন্টে পজিশন করুন। ফটোগ্রাফিতে এই টেকনিককে Rule of thirds বলে। কোন কোন ক্ষেত্রে সাবজেক্টকে ডায়েগোনালি সেটিং করলে ছবি সুন্দর হয় ও ছোট ফ্রেমে বড় সাবজেক্ট কভার করা যায়।



২। সাবজেক্টের গুরুত্ব: আমরা ফটো তুলি সাধারণত কোন সাবজেক্টকে (ব্যক্তি, জীব, বস্তু) উদ্দ্যেশ্য করে। সুতরাং ফটোর অন্যান্য অংশের চেয়ে সাবজেক্টকে গুরুত্ব দিতে হবে বেশি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সাবজেক্টের চতুর্পাশ্বে খালি জায়গা রাখার ও বড় ব্যাকগ্রাউন্ড নেওয়ার দরকার নাই। যতটুকু সম্ভব সাবজেক্টের কাছে এসে ছবি তুলুন। জুম দিয়ে ক্লোজআপ করার পরিবর্তে কাছে গিয়ে শট নেওয়া ভালো। কাছে যাওয়া সম্ভব না হলেই জুম ব্যবহার করুন। শট নেওয়ার আগে ভিউ ফাইন্ডারে ফোকাস ফ্রেমের চারটি কর্নারে দেখুন গুরুত্বপূর্ণ কিছু আছে কিনা। যদি না থাকে সাবজেক্টের আরো কাছে এসে ব্যাকগ্রাউন্ড ছোট করে সাবজেক্ট দিয়ে ফ্রেম কভার করুন।

দূর থেকে শট নেওয়ার কারণে বামপাশের ছবিতে মেয়েটির চেহারা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না। কাছে গিয়ে শট নেওয়ায় ডানপাশের ছবিতে মেয়েটির ছবি অনেক পরিষ্কার ও জীবন্ত, সেইসাথে ব্যাকগ্রাউন্ড যতটুকু এসেছে তাতেই বুঝা যাচ্ছে এটা সমূদ্র সৈকত।

যখন কোন বিশেষ অনুভূতি, কোন ব্যাক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা কোন বস্তুর অংশ-বিশেষের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে ছবি তুলবেন তখন সেই বিশেষ অনুভূতির বাহ্যিক প্রকাশ, অঙ্গ/অংশটুকু ক্লোজআপ করে পুরো ফ্রেম কভার করে শট নিন। এতে বিশেষ অনুভূতি/সৌন্দর্য ও ইন্টিমেসি শতভাগ ফুটে উঠবে।

৩। ফটোতে ব্যাকগ্রাউন্ড নির্বাচন: ব্যাকগ্রাউন্ড যেন সাবজেক্ট থেকে বেশি উজ্জল বা এমন কোন রংয়ের না হয় যা সাবজেক্টকে ম্রিয়মান করে দেয়। সাবজেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ডকে এমনভাবে পজিশন করতে হবে যেন ফটোতে একটা ত্রিমাত্রিক এফেক্ট আসে। সাবজেক্ট ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে দুরত্ব বৃদ্ধি করে শুধু সাবজেক্টের উপর ফোকাস করে গুরুত্বহীন ব্যাকগ্রাউন্ডের আকর্ষণ কমিয়ে আনা যায়।

বামপাশের ফটোতে ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রত্যাশিত লোক ও মেয়েটির মাথার উপরে গাছটি ফটোর সৌন্দর্য নষ্ট করেছে। ডান পাশের নিচের ফটোতে এক্সপোজের সাহায্যে depth of field (amount of in-focus distance) এডজাস্ট করে শুধু সাবজেক্টকে ফোকাস করে ব্যাকগ্রাউন্ডকে অস্পষ্ট করা হয়েছে।

৪। সঠিক ওরিয়েন্টেশন:

সাধারণত সাবজেক্টের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বা ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর ভিত্তি করে ফটোর ওরিয়েন্টেশনের (Horizontal/Vertical) সিদ্ধান্ত নিতে হয় কোন কোন ক্ষেত্রে ফটো Horizontal ও Vertical উভয় ওরিয়েন্টেশনেই ভালো হতে পারে।

৫।Point of view:

কোন এঙ্গেল ও কোন পাশ থেকে শট নেবেন সেটাই ভিউপয়েন্ট। ফটোগ্রাফিতে ভিউপয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভিউপয়েন্ট পরিবর্তন করে ফটোকে আরো আকর্ষণীয় ও ত্রিমাত্রিক করা যায়। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডেও পরিবর্তন আনা যায়। সাবজেক্ট বা ক্যামেরা অথবা উভয়ের পজিশন পরিবর্তন করে বিভিন্ন ভিউপয়েন্ট সৃষ্টি করা সম্ভব।

৬। Photography Poses:

ফটোগ্রাফিতে সাবজেক্টের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, মনোগত অনুভূতি, পারিপার্শিকতা ইত্যাদি প্রকাশের শারীরিক ভাষাকেই বলে পোস। সাবজেক্টের যথার্থ পোস সহকারে শট নিতে পারলে একটি ফটো অনেকসময় একটি গল্প, ডকুমেন্ট বা ইতিহাসের মত জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে।


৭।Framing
ফ্রেমিং হচ্ছে সাবজেক্টকে ইমেজের জ্যামিতিক আকারের অন্য অংশের মধ্যে আবদ্ধ করা। এতে সাবজেক্টের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায় এবং ফটোতে ত্রিমাত্রিক এফেক্ট ও গভীরত্ব বৃদ্ধি পায়।


এক্সপোজার
ফটোগ্রাফিতে "Exposure" বলতে ফিল্ম বা সিসিডি-তে কতটুকু আলো এসে পড়বে তাই বুঝায়। ফটোতে আলোর গুরুত্ব অপরিসীম। সুতরাং ভালো ও সুন্দর ফটো তুলতে হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল তথা এক্সপোজার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।যদিও বিষয়টা কিছুটা টেকনিক্যাল ও জটিল।পাওয়ার এন্ড শ্যুট ডিজিটাল ক্যামেরায় অটোমুডে ক্যামেরা নিজেই Exposure সেটিং করে, তারপরেও এই বিষয়ে কিছুটা জ্ঞান থাকা ভালো। আর যদি এসএলআর ক্যামেরা হয় তবে অবশ্যই এ বিষয়ে জানতে হবে। আমরা যদি Exposure-কে একটি ত্রিভুজের সাথে তুলনা করি তবে ত্রিভুজটির তিনটি কোণ হচ্ছে: ISO, Aperture এবং Shutter Speed।


Auto Exposure: এই অপশনে ক্যামেরা নিজেই এক্সপোজার সেটিং করে আগেই বলেছি, তবে অটো এক্সপোজারের কলা-কৌশল বুঝলে একে প্রত্যক্ষভাবে ম্যানিপোলেশন করা সম্ভব। সাধারণত বেশিরভাগ আধুনিক ডিজিটাল ক্যামেরা ফোকাস এরিয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে আলোর তথ্য সংগ্রহ করে (সেন্টার পজিশন থেকে বেশি তথ্য সংগ্রহ করে) সবগুলো তথ্যকে Average করে Exposure সেটিং করে। তথ্যগুলো সংগ্রহ করে শাটার বাটনকে অর্ধেক চাপ দেওয়ার মুহুর্তে। কোন ফটোকে অধিক আলোকিত করার জন্য ফটোর ফোকাস এরিয়া থেকে অধিক অন্ধকারময় আশেপাশের কোন জায়গা ভিউ ফাইন্ডারে সেন্টার ফোকাস করে শাটার বাটনকে অর্ধেক চাপ দিয়ে ধরে রাখুন। শাটার বাটনকে ঠিক ঐ জায়গায় স্থির রেখে ক্যামেরা মুভ করে যে জায়গায় ছবি তুলবেন সেটা ভি্উ ফাইন্ডারে ফ্রেম করুন। এবার শাটার বাটনের বাকী অংশটুকু চাপ দিয়ে শট নিন। যেহেতু ক্যামেরা তুলনামূলকভাবে অন্ধকার জায়গার তথ্যের ভিত্তিতে এক্সপোজার সেটিং করেছে সেহেতু আপনার ছবিটা নিয়ম থেকে কিছুটা বেশি আলোময় ও উজ্জল হবে। আবার কোন ছবির উজ্জল আলোকে কিছুটা কমাতে ঠিক উল্টোভাবে অটো এক্সপোজার ম্যানিপোলেশন করতে পারেন। পরীক্ষা করে দেখুন, টেকনিকটা হয়তো কাজে লাগতে পারে। অটোমুডে ফটো তোলার সময় ফোকাস এরিয়াতে লক্ষ্য রাখবেন যেন সব জায়গায় আলোর পরিমাণ প্রায় একই হয়। তদি একপাশে রোদ, মাঝখানে ছায়া আরেক পাশে অন্ধকার এধরনের জটিল হয়, তবে অটো মুডের অ্যাপারচার সেটিং সঠিক নাও হতে পারে।


Manual Exposure: ম্যানুয়েল এক্সপোসার নিয়ে "ডিজিটাল ক্যামেরা টিয়টোরিয়েল" পর্বে কিছুটা আলোচনা করেছিলাম। এখানে আরো বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। Shutter Speed হচ্ছে শাটার বাটন চাপ দেওয়ার পর লেন্সের মাধ্যমে আলো প্রবেশের গোলাকার ছিদ্র বা জানালাটি কতোক্ষণ খোলা থাকবে, আর Apertures হচ্ছে আলো প্রবেশের গোলাকার জানালাটির সাইজ (ব্যাস) কত হবে তা নির্ধারণ করা।
Large aperture (জানালার সাইজ বড়) = small f number
Small aperture (জানালার সাইজ ছোট) = larger f number
Shutter Speed -এর সময়কে সেকেন্ডের ভগ্নাংশে প্রকাশ করা হয়।
সাধারণ সূর্যালোকিত দিনে ক্যামেরার ভি্উ ফাইন্ডার বা ডিসপ্লেতে যদি '125 16' বা '500 8' প্রদর্শিত হয় তার প্রথম সংখ্যার অর্থ হচ্ছে: Shutter Speed ১২৫ ভাগের ১ সেকেন্ড অথবা ৫০০ ভাগের ১ সেকেন্ড আর ২য় সংখ্যাটিও একটি ভগ্নাংশ যার অর্থ হচ্ছে লেন্সের ফোকাল লেন্থকে গোলাকার জানালার ব্যাস দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল হয় ১৬ (80mm/5mm = f16) অথবা ৮ (160mm/20mm = f8)।

১। Apertures: অ্যাপারচার তথা 'গোলাকার খোলা জানালা'র সাইজকে f/number দিয়ে প্রকাশ করা হয়। যেমন: f/2.8, f/4, f/5.6,f/8,f/22 ইত্যাদি।এই নাম্বারের সিরিজ নির্বাচনে প্রতি ধাপে ছোট সংখ্যার দিকে গেলে জানালার সাইজ দ্বিগুণ করে বড় হবে আর বড় সংখ্যার দিকে গেলে প্রতি ধাপে অর্ধেক করে ছোট হবে। উল্ল্যেখ্য, শাটার স্পীড তথা 'জানালা খোলা থাকার সময়সীমা' ½ s – ¼ s – 1/8 s – 1/15 s – 1/30 s – 1/60 s – 1/125 s – 1/250 s – 1/500 s প্রতি ধাপে দ্বিগুণ করে বাড়ে বা অর্ধেক করে কমে। সুতরাং যদি অ্যাপারচার ভ্যালু এক ধাপ পরিবর্তন করে জানালার সাইজ অর্ধেক ছোট করা হয় এবং সেইসাথে শাটার স্পীডের ভ্যালু এক ধাপ পরিবর্তন করে জানালাটি খোলা রাখার সময় দ্বিগুণ করা হয় তাহলে প্লাসে মাইনাসে মিলে আলোর এফেক্ট আগের মতই থাকবে। এটাই Aperture এবং Shutter Speed এর পারষ্পরিক সম্পর্ক।
এদের প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করার আগে আরেকটি জিনিস পরিষ্কার হওয়া দরকার - Depth of Field। ফটোগ্রাফীতে ডেফথ অফ ফিল্ড বলতে বুঝায় ছবির কতটুকু দূরত্ব বা পরমাণ ফোকাসের আওতায় আসবে তা নির্ধারণ করা। Large depth of field বলতে বুঝায় ছবির সাবজেক্ট ও সাবজেক্টের কাছের ও দূরের প্রা্য সবকিছুই ফোকাসে আসবে। এভাবে ছবির Depth of Field বাড়াতে হলে Aperture তথা 'গোলাকার খোলা জানালা'র সাইজ ছোট করতে হবে অর্থাৎ f/number বড় হবে।

বাম পাশের ফুলের শট নেওয়া হয়েছে aperture f/2.8 দিয়ে, ফলাফল Small depth of field, শুধু ফুলটি ফোকাসের মধ্যে এসেছে, এর পেছনের কিছু আসে নাই। ডান পাশের শট নেওয়া হয়েছে aperture f/16 দিয়ে। ফলাফল Large depth of field, কাছের ও দূরের সবকিছুই ফোকাসের আওতায়। শুনতে কিছুটা অযৌক্তিক হলেও মনে রাখার চেষ্টা করুন:
Large Aperture = Large Hole = Low Number = Small Depth
Small Aperture = Small Hole = High Number = Large Depth

আমরা এখন বলতে পারি, Depth of Field নির্ভর করে দুটি বিষয়ের উপর: সাবেজক্ট থেকে ক্যামেরার দুরত্ব ও Aperture সেটিং।

২। Shutter Speed: আমরা জানি শাটার স্পীড ও অ্যাপারচার দুটোই আলোর পরিমান কমানো-বাড়ানোর টুলস। Aperture আলো প্রবেশের ছিদ্র ছোট-বড় করে আর Shutter Speed আলো প্রবেশের ছিদ্রটি অল্প-বেশি সময়ের জন্য খোলা রেখে আলোর পরিমান নিয়ন্ত্রন করে। সাবজেক্ট যেখানে গতিশীল সেখানে Aperture-এর পরিবর্তে Shutter Speed দিয়ে আলোর পরিমান নিয়ন্ত্রন করা হয়। সাধারণত চলন্ত গাড়ি, খেলাধুলা, শিশুদের দৌড়-ঝাপের শট fast shutter speed-এ নিলে ফটো ভালো হয়।

সাইকেল চালানো অবস্থায় বালকটির ফটো দ্রুত শাটার স্পীড সেটিং ও সাইকেলকে টার্গেট করে ক্যামেরা মুভ করে উঠানো হয়েছে। তাই ব্যাকগ্রাউন্ড ঝাপসা হয়েছে। সেটাই ভালো, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ডে অপ্রত্যাশিত কিছু এসে সাবজেক্টের আকর্ষণ নষ্ট করার সম্ভাবনা নাই। দ্রুত ও ধীর গতির শাটার স্পীডের পার্থক্য বুঝার জন্য নিচের ছবিটি দেখুন:

একই ফোয়ারার দুটি ছবি। বাম পাশের ছবিটি দ্রুত শাটার স্পীডে শট নেওয়া - ৫০০ ভাগের ১ সেকেন্ডের জন্য লেন্সের মধ্য দিয়ে সেন্সরে আলো প্রবেশের ছিদ্রটি খোলা ছিল। পানির প্রতিটি বিন্দু বাতাসে ভাসমান অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। ডান পাশের ছবিটি স্লো শাটার স্পীডে (৩০ ভাগের ১ সেকেন্ড) তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, স্লো শাটার স্পীডের সময় ক্যামেরা ট্রিপড বা কোন কিছুর উপর রেখে শট নেওয়া ভাল। অন্যথায় হাত কেঁপে ছবি ঝাপসা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৩। ISO (Sensitivity): ডিজিটাল ক্যামেরায় CCD বা CMOS সেনসর কতখানি সংবেদনশীল বা আলোর স্পর্শে কত তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করবে তা ISO সংখ্যা দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। Low ISO Rating -এর অর্থ এটা কম সংবেদনশীল অর্থাৎ যথার্থ এক্সপোজারের জন্য বেশি আলোর প্রয়োজন হবে। High ISO Rating -এর বেলায় হবে ঠিক উল্টো। সাধারণত ISO 100 - ISO 400 ব্যবহার হয় বেশি। ISO Rating যত বেশি হবে ক্যামেরা কম আলোর ছবি তত বেশি ভালো তুলতে পারবে। তা ছাড়া দ্রুত শাটার স্পীডে শট নেওয়ার সময়ও ISO Rating বেশি রাখতে হয়। High ISO Rating -এর নেতিবাচক দিক হচ্ছে ফটোতে কিছুটা 'noise' -এর সৃষ্টি হয়।

একই ফটো - তিন রকমের ISO (100, 400, 1600) দিয়ে শট নেওয়া।

৪। Contrasts and colours: Contrast বলতে কোন ছবির brightest এবং darkest রংয়ের ঘণত্বের পার্থক্যকে বুঝায়।

আলোর উৎস, পরিমাণ, বিন্যাস এবং সঠিক এক্সপোজের সমন্বয়েই সম্ভব Balance contrast and color।

শেষ কথা: প্রয়োজন ছাড়া ম্যানুয়েল এক্সপোজার ব্যবহার না করাই ভালো। লেটেস্ট মডেলের ক্যামেরা অটোমুডে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সঠিক এক্সপোজ করে। যদি ফটো আপনার মনের মত না হয় তখন এক্সপেরিমেন্ট করে দেখতে পারেন। এসএলআর ক্যামেরা হলে কথাই নেই, ইদানিং লেটেস্ট কমপ্যাক্ট ক্যামেরাতেও আংশিক ম্যানুয়েল এক্সপোজারের সুবিধা থাকে। কোন নির্দিষ্ট ISO, Aperture এবং Shutter Speed-ভ্যালুতে আপনার ক্যামেরাতে একটি ফটো যে কোয়ালিটির উঠেছে, আরেকজনের ক্যামেরায় একই এক্সপোজার ভ্যালুতে ফটোটি একই কোয়ালিটির হবে তেমন কোন গ্যারান্টি নাই। ক্যামেরার মডেল, ফিচার ও লেন্সের উপর ভিত্তি করে এক্সপোজার ভ্যালু একই হলেও ফটোর কোয়ালিটির তারতম্য হতে পারে।
আশা করি ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফির বেসিক কলা-কৌশল নিয়ে লেখা আমার এই তিনটি পর্ব ক্যামেরার নতুন ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাজে আসবে।

কাছ থেকে দেখা ডিজিটাল ক্যামেরা


কমপ্যাক্ট (Point and Shoot) ও এস এল আর ডিজিটাল ক্যামেরার বিভিন্ন পার্টস ও বাটনের সাথে পরিচিতি - গুরুত্বপূর্ণ বাটন ও ফিচারসমূহের ফাংশন ও ব্যবহার - কমপ্যাক্ট ও এস এল আরের পার্থক্য - ক্যামেরার প্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত উপকরণ - গ্রাফিক্যাল প্রতীক - শুরুর আগে ক্যামেরা সেটিং - ‌ক্যামেরা ধরার কৌশল

আপনার ক্যামেরার সাথে পরিচিত হোন, ক্যামেরার সব ফাংশন/ফিচার সম্পর্কে জানুন এবং প্রতিটি বাটন/অপশনের অবস্থান ও ব্যবহার পদ্ধতি আগে থেকেই জেনে রাখুন যাতে সঠিক সময়ে সঠিক বাটনটি খুঁজে পেতে ও ব্যবহার করতে সমস্যা না হয়।মনে রাখবেন আপনার লেটেস্ট মডেলের ক্যামেরার প্রতিটি ফিচারের জন্য আপনাকে দাম দিতে হয়েছে।টিপিক্যাল কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরার বেসিক পার্টস ও বাটন নিয়ে এখানে সংক্ষেপে আলাপ করলাম।বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের মধ্যে সামান্য তারতম্য হলেও আশা করি এতে আপনার ক্যামেরাকে বুঝতে সুবিধা হবে।

Shutter button:পুরো চাপ দিয়ে ছবি শট ও অর্ধেক চাপ দিয়ে অটো মুডে এক্সপোজ সেটিং।
Control buttons: ক্যামেরার বিভিন্ন সেটিং এডজাস্ট করা।.
Shooting mode dial: বিভিন্ন সীন মুড ও এক্সপোজার এডজাস্ট নির্বাচন করা।
Microphone: মুভি ক্লিপ নেওয়ার সময় সাউন্ড রেকর্ড করা।.
Focus-assist light: ক্যামেরার ফোকাসকে সাহায্যকারী বাতি।
Electronic flash:বিল্ড ইন ইলেকট্রোনিক ফ্লাশ।
Optical viewfinder: ছবির কমপোজ ও ফ্রেম করার জন্য।
Zoom lens and control: ছবিকে কাছে ও দুরে করা।
Tripod socket: তেপায়ায় ক্যামেরা বসানোর জন্য।
Docking port: বিশেষভাবে নির্মিত বক্স যার উপরে ক্যামেরা বসিয়ে ফটো ট্রান্সপার, ব্যাটারী চার্জ করা হয়।
Power switch: ক্যামেরা অন-অফ করার মেইন সুইচ।
Indicator LEDs: ক্যামেরার বর্তমান স্ট্যাটাচ প্রদর্শন করে।
LCD (liquid crystal display) panel: এলসিডি মনিটর।
Display control/Menu button: মনিটর ও মেনুতে প্রদর্শিত তথ্য নিয়ন্ত্রন করা।
Picture review: সাম্প্রতিক তোলা ছবি প্রদর্শন করা।
Cursor pad: লিস্ট থেকে মেনু নির্বাচন করা।
Set/Execute button: ওকে বা এন্টার বাটন।
Memory card slot: মেমোরি কার্ড স্থাপনের খাঁজ।
USB port: USB cable সংযুক্তি।

লেটেস্ট কমপ্যাক্ট ক্যামেরাতেও আংশিক ম্যানুয়েল এক্সপোজারের সুবিধা থাকে। নিচের ফিচারটি দেখুন:

Program auto, aperture priority, shutter priority, and manual modes
Program mode (P)— ক্যামেরা নিজেই shutter speed এবং aperture সেট করবে।
Aperture priority mode (A)— আপনি সেটিং করবেন aperture, ক্যামেরা সেট করবে shutter speed।
Shutter priority mode (S)—আপনি সেটিং করবেন shutter speed, ক্যামেরা সেট করবে aperture।
Manual mode (M)— আপনি aperture এবং shutter speed দুটিই ম্যানুয়েলী সেটিং করবেন।
ম্যানুয়েলী সেটিংয়ের জন্য আপনার ক্যামেরার ইউজার গাইড দেখুন।

এসএলআর ও কমপ্যাক্ট ক্যামেরার পার্থক্য
এসএলআর ও কমপ্যাক্ট ক্যামেরার মূল পার্থক্য হচ্ছে এসএলআরে ১০০% ম্যানুয়েল এক্সপোজারের (Shutter Speeds, Apertures, ISO) সুবিধা।
এছাড়া এসএলআরে সবসময় অতিরিক্ত কমপোনেন্ট (জুম লেনস্‌, ফ্লাশলাইট, ফিল্টার ইত্যাদি) ব্যবহারের অপশন থাকে। প্রফেশনাল ফটোগ্রাফীতে অটো এক্সপোজার থেকে ম্যানুয়েল এক্সপোজারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণ জানতে হলে অটো এক্সপোজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে। অটোমুডে আমরা যখন ছবি তোলার জন্য কোন সাবজেক্টকে লেন্সের মাধ্যমে ফ্রেমে আবদ্ধ করে (ফোকাস) শার্টার রিলিজ বাটন অর্ধেক চাপ দিই, তখন ক্যামেরা প্রসেসর ঐ সাবজেক্টের আলো ও কিছু পারপার্শ্বিক তথ্য নিয়ে ক্যামেরাতে আগে থেকে দেওয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে হিসেব করে এক্সপোজার সেটিং করে দেয়। যখন শার্টার রিলিজ বাটন বাকী অর্ধেক অর্থাৎ পুরোটা চাপ দেই তখন এই সেটিংয়ের ভিত্তিতে ছবিটির শট নেয়। আধুনিক ক্যামেরা অটোমুডে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভালো ছবি নেয় তবে সমস্যা হয় জটিল কিছু অবস্থায়। যেমন নদীর পারে গাছের ছায়ায় দাঁড়ানো একটা লোকের ছবি নেব। লোকটার পিছনে নদীর পানি থেকে সুর্যের আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। এখন অটো এক্সপোজে ক্যামেরা যদি নদীর পানিতে প্রতিফলিত সুর্যের আলোকে হিসেব করে এক্সপোজ সেটিং করে তবে লোকটির ছবি অন্ধকার হবে। ধরুন ফ্লাশ ব্যবহার করে তিনটি লোকের একাটি গ্রুপ ছবি নেব, যাদের একজনের পরণে সাদা, অন্যজনের কালো এবং আরেকজনের লাল সার্ট। এখানে আলো ও রংয়ের গড় হিসেব করে এক্সপোজ সেটিং হবে। তাই সবগুলো রং ভালো নাও আসতে পারে। এছাড়া ছবিতে হালকা লাল রংয়ের একটা আবরণ আসার সম্ভাবনা খুবই বেশি। এসব সমস্যাকে এড়ানোর জন্যই ম্যানুয়েল এক্সপোজারের গুরুত্ব। উল্লেখ্য, ম্যানুয়েলী এক্সপোজার সেটিংয়ের জন্য Shutter Speeds, Apertures, ISO এবং Flash সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

এসএলআর ক্যামেরার কমন কিছু বাটন ও ফিচার
এসএলআর ক্যামেরায় কমপ্যাক্ট ক্যামেরার সব ফিচারই থাকে তবে এগুলোর ক্ষমতা ও এখতিয়ার কমপ্যাক্ট ক্যামেরার চেয়ে বেশি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত কিছু ফিচার থাকে যা বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলে কিছুটা তারতম্য হতে পারে। সংক্ষেপে এসএলআর ক্যামেরার কমন কিছু বাটন ও ফিচার:

1. Lens Alignment - Each lens you use will have a similar red dot.
2. Flash Pop Up Button - Press this to activate the pop up flash.
3. Lens Release - By pressing this in, you allow the lens to be twisted and released.
4. Depth of Field preview - The depth of field determines how much of an image is in focus.
5. Lens contacts - These line up with the contacts of any compatible lenses.
6. Mirror - This mirror allows you to see, through the viewfinder.
7. Grip, 8. Shutter Release Button
9. Focus Assist Beam - It illuminates the subject in poor light to assist the auto focus.
10. Pop Up Flash -You will normally have to activate it via a button for more creative photography.


1. Viewfinder -
2. Dioptre Adjustment - Very handy if you are slightly long or short sighted.
3. Rubber Eyecup -
4. Joystick Dial - This will allow you to move around a menu or image in display mode.
5. Exposure Lock/Zoom Button -
6. Focus Point Selector/Zoom Button - You can choose from a number of points as to which you would like to use.
7. Write Indication Light - When it flashes red, it is writing data from the recently exposed images.
8. Jog Dial and Set button - The jog dial will scroll through images or items in a menu.
9. On/Off Button - 10. Erase Button
11. Play Button -
12. Jump Button - Used to jump 2 or 3 images or menu items at a time.
13. Info - By pressing this, you will bring up all the information of any image that you select and view.
14. Menu Button - This will bring up all the internal menu functions on the screen.
15. Screen - Displays menus and images that have been exposed.


1. Light for LCD Display - Turns on the light to illuminate the LCD panel in low light conditions.
2. AF/WB - Auto focus/white balance setting.
3. Drive/ISO - Drive means auto drive or frame rate.
4. Shutter Button -
5. Top Dial - This is also used to change/alter various settings in either menu by scrolling up or down.
6. Metering/Flash Compensation - The cameras metering system is in the screen that you see through the viewfinder when lining up a shot.
7. LCD Screen - This will display all the exposure, speed ISO etc.
8. Hotshoe - The area where you can place an external, dedicated speedlite or flashgun.
9. Exposure control Dial - Using this dial, you can be as creative or lazy as you wish, from full auto mode (like a point and shoot) to fully manual.
10. Pop up Flash -

ক্যামেরার প্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত উপকরণের ছবি


শুরুর আগে ক্যামেরা সেটিং
১। ক্যামেরার প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সাথে আছে কিনা দেখুন।
২। ইউজার ম্যানুয়েল পড়ুন। (প্রিন্টেড +পিডিএফ)
২। সাথে দেওয়া সফটওয়্যার কমপিউটারে ইনস্টল করুন। প্রোগ্রাম ইনস্টল করার আগে ক্যামেরা কমপিউটারে সংযুক্ত করবেন না।
৩।ব্যাটারী (ক্যামেরাতে লোড করে) ফুলচার্জ করুন।
৪। ক্যামেরার পাওয়ার টার্ন অফ করে মেমোরি কার্ড ইনসার্ট করুন।
৫। স্ট্রেপ সংযুক্ত করুন।
৬। ক্যামেরার পাওয়ার টার্ন অন করে Language, Date, Time সেটিং করুন।

ডিজিটাল ‌ক্যামেরায় বিভিন্ন অপশন ও ফিচারকে গ্রাফিক্যাল প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। বিভিন্ন কোম্পানীর প্রতীকের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও বেসিক প্রতীকগুলো প্রায় একইরকম। নিম্নলিখিত প্রতীকগুলো সম্পর্কে ধারনা থাকলে ডিজিটাল ক্যামেরার অপশন/ফিচার বুঝা সহজ হয়।


‌ক্যামেরা ধরার কৌশল
ছবি তোলার সময় ক্যামেরা কাঁপা ও অসাবধানতায় হাত থেকে ক্যামেরা পড়ে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। ক্যামেরা ধরার কিছু কৌশল জানা থাকলে এ সমস্যাগুলো আর থাকে না। আমরা সবাই জানি শার্টার বাটনে চাপ দেওয়ার মুহুর্তেই ছবি সেনসরে/ফিল্মে রেকর্ড হয়। আর ঠিক সেই মুহুর্তেই অনেকের হাত কেঁপে ছবি ঝাপসা হয়ে যায়।

আপনি দাড়িঁয়ে, বসে যেভাবেই ছবির শট নিন , ক্যামেরা ধরার সময় ক্যামেরার নিচে হাত বা আঙ্গুল দিয়ে সাপোর্ট দিতে ভুলবেন না। এরপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হাতের নিচে আরেকটি সাপোর্ট দিন। দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময় হাতের বাহু শরীরের সাথে লাগিয়ে রাখুন। আশেপাশে কোন গাছ, দেয়াল বা এধরনের কিছু থাকলে তাও সাপোর্টের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। বসে ছবি তোলার সময় হাতের কনুই হাঁটুতে লাগিয়ে বা টেবিল-চেয়ারের উপরে হাতের বাহু রাখতে পারেন। নিচের উদাহরণগুলো দেখুন:


এসব কৌশল ব্যবহারে শুরুর দিকে একটু সমস্যা হলেও কিছুদিন অভ্যাস করলে ঠিক হয়ে যাবে।

রবিবার, ২০ মার্চ, ২০১১

ডিজিটাল ক্যামেরা টিউটোরিয়াল (বেসিক)

ভূমিকা - ক্যামেরা কিভাবে কাজ করে - Compact vs SLR - ফিচার/ফাংশন - ক্যামেরা কেনার আগে - ক্যামেরা কেনার পরে - অটোমুডে ছবি - শেষ কথা

সাধারণ মানের একটি ডিজিটাল ক্যামেরা এখন আর বিলাসদ্রব্য নয় বরং প্রাত্যহিক জীবনের অত্যাবশ্যকীয় একটি বস্তু। ডিজিটাল ক্যামেরা দিন দিন সুলভ হয়ে আসছে। হাজার দশেক টাকায় এখন বেশ ভালো ক্যামেরা পাওয়া যায়। বিভিন্ন ব্রান্ডের ক্যামেরা দিনদিন সুলভ হচ্ছে এবং এর সাথে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ফীচার ও ফাংশন। তাই প্রতিদিন ডিজিক্যামের ব্যবহারকারীও বাড়ছে। নতুন/সাধারণ ব্যবহারকারী ও যারা নতুন ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে চান তাদের জন্য কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরার বেসিক ফাংশন ও ফিচার নিয়ে এই লেখা।

ক্যামেরা কিভাবে কাজ করে
কনভেনশনাল ক্যামেরা মেকানিক্যাল ও ক্যামিকেল প্রসেসের উপর নির্ভর এবং আলো লেন্সের মাধ্যমে শার্টারের মধ্য দিয়ে এসে ফিল্মের উপর পড়ে। বিভিন্ন ধাপে রাসায়নিক প্রসেসের মাধ্যমে এই ফিল্ম থেকে ছবি প্রিন্ট হয়। ডিজিটাল ক্যামেরার প্রসেস হচ্ছে ইলেকট্রনিক এবং আলো এসে পড়ে CCD (Charge-Coupled Device) সেনসরের উপর। এরপর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রসেসের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ছবি তারপরে প্রিন্ট কপি। CCD/CMOS -র এই ডিজিটাল তথ্য (ছবি) সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইসে ব্যবহার সম্ভব।

Compact vs SLR
ডিজিটাল ক্যামেরাকে মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করা যায়। Shoot and Point (Compact) ও SLR (Single Lens Reflex)। কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় বেশিরভাগ ফাংশন অটোমেটিক যা ক্যামেরা নিজেই নিজস্ব প্রোগ্রামের আলোকে সেটিং করে। এসএলআরে এসব ফাংশন ব্যবহারকারী নিজেই সেটিং করতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অবশ্যই ক্যামেরা ও ফটোগ্রাফী সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। SLR ক্যামেরার আকার, ওজন এবং দাম কমপ্যাক্ট ক্যামেরা থেকে বেশি হয়, এছাড়া আলাদা লেন্স ও ফ্লাস ব্যবহারের অপশন থাকে। এক কথায় এসএলআর ক্যামেরা হচ্চে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের জন্য। এই লেখাটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তাই এখানে শুধু কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরা নিয়েই আলাপ করব।

ডিজিটাল ক্যামেরার গুরুত্বপূর্ণ ফিচার/ফাংশন সমূহ

১। CCD (Charge-Coupled Device): সিসিডি ডিজিটাল ক্যমেরার একটি সিলিকন চীপ যেখানে ছবি রেকর্ড হয়। CCD বা CMOS সেনসর হচ্ছে ডিজিটাল ক্যমেরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দামী ডিভাইস। এটি মিলিয়ন পিক্সেলের সমন্বয়ে গঠিত। আলো যখন লেন্সের মধ্য দিয়ে এসে এই সেনসরের ফটোএকটিভ লেয়ারে আঘাত করে তখন ঐ লেয়ারের নিচের পিক্সেলে একটি বৈদ্যুত্যিক চার্জ উৎপন্ন হয়। আলোর পরিমাণের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পিক্সেলের বৈদ্যুত্যিক চার্জ বিভিন্ন রকমের হয়। মিলিয়ন পিক্সেলের বৈদ্যুত্যিক চার্জগুলোর সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় একটি ডিজিটাল ছবি।

কোন ডিজিটাল ক্যমেরার রেসুলেশন কত মেগাপিক্সেল তা দিয়ে ঐ ক্যামেরার সেনসরের ক্ষমতাকেই বুঝায়। যত বেশি মেগাপিক্সেল তত বড় প্রিন্ট আউট নেয়া যাবে ছবির মান অক্ষুন্ন রেখেই। ইদানীং অনেকে এই মেগাপিক্সেলকে ক্যামেরার স্ট্যাটাস সিম্বল মনে করে :)। পোস্টকার্ড সাইজ ফটো হচ্ছে 6"x4"। ব্যতিক্রমধর্মী প্রয়োজন ছাড়া এর থেকে বড় প্রিন্ট কেউ করে না। 7"x5" ফটো কোয়ালিটি প্রিন্টের জন্য ৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাই যথেষ্ট!


২। Lens: লেনস ডিজিটাল ক্যামেরার ২য় গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। Nikkon, Canon, Olympus কোম্পানীগুলো নিজেরাই লেন্স প্রস্তুত করে, আবার Sony, Casio, Panasonic কোম্পানীগুলো থার্ড পার্টির লেন্স ব্যবহার করে।


৩। Zoom: লেন্সের Zoom ক্ষমতা ক্যমেরার গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। 'জুম ইন' করার অর্থ হচ্ছে দুরের বস্তুকে লেন্সের সাহায্যে দৃশ্যত কাছে টেনে আনা, আর 'জুম আউট' করার অর্থ হচ্ছে কাছের বস্তুকে লেন্সের সাহায্যে দৃশ্যত দুরে ঠেলে দেয়া। জুম দুই প্রকারের: অপটিক্যাল জুম ও ডিজিটাল জুম। অপটিক্যাল জুম করার ক্ষেত্রে ক্যামেরা ব্যবহার করে লেন্স। অর্থাৎ লেন্সের সাহায্যে বস্তুকে ছোটবড় করবে যেখানে ছবির কোয়ালিটি একই থাকবে। ডিজিটাল জুমের সাথে বস্তু বা লেন্সের কোন সম্পর্ক নেই। এখানে ডিজিটাল প্রসেসে ছবির কোন অংশকে বড় করে দেখানো হয় এবং ছবির কোয়ালিটি হ্রাস পায়। উদাহরণ: গ্রাফিক প্রোগ্রামে ছবিকে যত বেশি জুম ইন করা হয়, ছবি ততবেশি ঝাপসা হয়ে যায়।

সুতরাং সাবধান, ক্যমেরার ডিজিটাল জুম দেখে প্ররোচিত হবেন না, লক্ষ্য করবেন অপটিক্যাল জুম ক্ষমতা কত। যত বেশি জুম থাকবে তত বেশি দুরত্বের ছবি তোলা যাবে। অপটিক্যাল জুম ক্ষমতাকে অনেক সময় ফোকাল লেনথ্‌ দিয়েও প্রকাশ করা হয়। যেমন: 5.8-17.4mm, 35-105mm ইত্যাদি। শেষের সংখ্যাকে প্রথম সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে অপটিক্যাল জুম ক্ষমতা বের হয়। 105/35=3। অর্থাৎ 3X Optical Zoom। শাব্দিক অর্থে ফোকাল লেনথ্‌ হচ্ছে লেন্স থেকে সেনসরের দুরত্ব।

৪। Focusing Range: লেন্স কতদুরের এবং কত কাছের বস্তুর ছবি তুলতে পারে তা Focusing Range দিয়ে প্রকাশ করা হয়। বেশির ভাগ ক্যামেরা অসীম (infinity) দুরত্বের বস্তুর ছবি তুলতে পারে, সুতরাং কত কাছের বস্তুর ছবি (Macro) তুলতে পারে সেটাই উল্লেখযোগ্য। যেমন: 1.6 ft (0.5 m) to infinity (wide), 3.28 ft (1.0 m) to infinity (telephoto), 8 in. (0.2 m) (close-up) ইত্যাদি।

৫। Aperture: লেন্সের Iris Diaphragm কে কতটুকু খোলা যায় উল্লেখ করার জন্য Aperture শব্দটি ব্যবহার হয়। লেন্সের মধ্য দিয়ে আলো প্রবেশের নিয়ন্ত্রণের জন্য Iris Diaphragm বা গোল আকৃতির ছিদ্রকে Aperture ছোট/বড় করে। এর মাধ্যমে লেন্সে প্রবেশকৃত আলোর পরিমান বাড়ানো কমানো হয়। f/# সংখ্যা দিয়ে বিভিন্ন সাইজের এপারচার বোঝানো হয়। সংখ্যা যত বড় হবে আলো প্রবেশের পথ তত ছোট হবে।
৬। Shutter Speed: লেন্স ও সেনসরের মাঝখানে আলো ঠেকানোর আবরণকে বলে শাটার। এটি আলো আটকে রাখার কাজ করে। লেন্সের মধ্য দিয়ে আসা আলো সেনসরে প্রবেশের জন্য এটি খুলে দিতে হয়। ছবি তোলার সময় অর্থাৎ Shutter release button চাপার সাথে সাথে এই শাটার অল্পক্ষণের জন্য খুলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। শাটার স্পিড হচ্ছে লেন্স ও সেনসরের মাঝখানে আলো ঠেকানোর আবরণটি (শাটার) খুলে যাওয়া এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার টাইম গ্যাপ। অর্থাৎ আবরণটি কতক্ষণ খোলা থাকবে তা নিয়ন্ত্রণ করা। সাধারনত এই সময়টি এক সেকেন্ডেরও কম হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশিও হতে পারে। শাটার স্পিডকে 1/90, 1/125, 1/250, 1/500, 1/1000, 1/1500 সেকেন্ড হিসেবে প্রকাশ করা হয়। রাতের ও দিনের ছবির জন্য Aperture ও Shutter Speed ভিন্ন রকমের হয়।

৭। Exposure কন্ট্রোল: Aperture ও Shutter Speed এর যথার্থ সমন্বয়েই সম্ভব সুন্দর ছবি তোলা। শাটার স্পিড এবং এপারচারের সঠিক সমন্বয় না হলে ছবি “ওভার এক্সপোজ” (বেশি উজ্জ্বল) কিম্বা “আন্ডার এক্সপোজ” (বেশি কালো) হয়ে যাবে। সাধারণত প্রফেশনাল ফটোগ্রাফাররা Aperture ও Shutter Speed ম্যানুয়েলি নিয়ন্ত্রণ করে ছবি তোলেন। কমপ্যাক্ট ক্যামেরা অটোমেটিক মুডে এগুলো নিজে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে। তবে তা সবসময় পুরোপুরি সঠিক নাও হতে পারে।

ইদানীং বেশিরভাগ ক্যামরায় Pre-programmed Exposure Mode সেটিং করা থাকে, সেখান থাকে সিলেক্ট করেও কাজ চালানো যায়। যেমন: Landscape, Portrait, Sunset, Beach/Snow, Backlight, Macro, Night Scene, Fireworks, Panorama, Sports ইত্যাদি। যত বেশি মুড থাকবে তত বেশি সুবিধা।

৮। ISO (Sensitivity): এটি হচ্ছে একটি মাপ, যা বলে দেয় CCD বা CMOS সেনসর কতখানি সংবেদনশীল বা আলোর স্পর্শে কত তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করবে। Low ISO Rating -এর অর্থ এটা কম সংবেদনশীল অর্থাৎ যথার্থ এক্সপোজারের জন্য বেশি আলোর প্রয়োজন হবে। High ISO Rating -এর বেলায় হবে ঠিক উল্টো। সাধারণত ISO 100 - ISO 400 ব্যবহার হয় বেশি। ISO Rating যত বেশি হবে ক্যামেরা কম আলোর ছবি তত বেশি ভালো তুলতে পারবে।

৯। Imaze Stabilazator: খুবই প্রয়োজনীয় একটি ফিচার। এক্সপোজারের সময় ক্যামেরা কাঁপলে ছবি ঝাপসা হয়। এই সমস্যাকে কমিয়ে আনার জন্য image stabilization অথবা vibration reduction systems। এক্সপোজারের সময় ক্যামেরা কাঁপলে সেনসর নিজেই সামান্য স্থান পরিবর্তন করে সেটা ব্যালেন্স করে নেয়। জুমের মত এখানেও Optical Stabilazator গুরুত্বপূর্ণ, ডিজিটাল নয়।

১০। Viewfinder/LCD Display: যে ব্স্তু বা ব্যক্তির ছবি তুলব তা আমরা ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমেই দেখি। আমরা যে দৃশ্যের ছবি তুলবো সেটা ফ্রেমের মধ্যে কেমন দেখাচ্ছে তা ভিউফাইন্ডারের মাধ্যমে অথবা এলসিডি ডিসপ্লেতে দেখে সন্তুষ্ট হলেই শাটার বাটন চাপ দিয়ে ছবি তুলি। এছাড়া ছবি তোলার পর ডিসপ্লেতে দেখতে পারি ছবিটি ভালো হয়েছে কিনা, নাহলে ডিলিট করতে পারি। সুর্যের প্রকট আলোতে ডিসপ্লের পরিবর্তে ভিউফাইন্ডার ভালো। সুতরাং ভিউফাইন্ডার ও ডিসপ্লে দুটিই প্রয়োজনীয়। ডিসপ্লের ব্যবহারে ব্যাটারী তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। ডিসপ্লে কমপক্ষে ৩ ইঞ্চি (কোনাকুনি দৈর্ঘ্য) হওয়া উচিত।

১১। Autofocus: ছবি তোলার সময় আমরা লেন্সকে জুম ইন বা জুম আউট করে অথবা নিজে ক্যামেরা নিয়ে বিভিন্ন দিকে মুভ করে ভিউফাইন্ডার/ডিসপ্লেতে দেখি কোন পজিশনে ছবিটি ফোকাস পয়েন্টে আসে। এই কাজটি লেন্সকে আগে পিছে মুভ করে ক্যামেরা নিজে নিজে করাকেই বলে অটোফোকাস।

১২। White Balance: ছবি থেকে অবাস্তব রঙের প্রভাব দুর করে বাস্তবসম্মত সাদা করার প্রসেসকে বলে হোয়াইট ব্যাল্যান্স। বিশেষ করে যেখানে সাদার প্রধান্য বেশি সেসব ক্ষেত্রে যদি ফ্লোরোসেন্ট বাতি জালানো হয় তখন সাদার মধ্যে একটি নীলাভ আভা প্রতিপলিত হয় যা ছবির কালারকে অবাস্তব করে তোলে।


১৩। Flash: সাধারণত কমপ্যাক্ট ডিজিটাল ক্যামেরার built-in flash ৩-৫ মিটার দুরত্ব কভার করে। অন, অফ, অটো ছাড়াও ফ্লাশ লাইটেরও আবার বিভিন্ন মুড থাকে যা ক্যামেরার ইউজার ম্যানুয়েল দেখে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। কিছু ক্যামেরায় Infrared sensor থাকে যার মাধ্যমে ক্যামেরা ও ছবির টার্গেটের দুরত্ব নির্ণয় করে ফ্লাশ এডজাস্ট হয়ে যায়। অনেক ক্যামেরায় আবার External Flash Unit ব্যবহারের সুযোগ থাকে, তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসএলআর ক্যামেরার বেলায়।

১৪। Red Eye Reduction: মানুষ বা জীব-জন্তুর ছবিতে অনেকসময় দেখা যায় চোখের রেটিনা লাল বর্ণের হয়ে গেছে। শটের সময় ফ্লাশের আলো সামান্য কোণ সৃষ্টি করে লেন্সে ফিরে আসে। চোখের রেটিনা হল আয়নার মত। কমপ্যাক্ট ক্যামেরায় ফ্লাশ লাইট ও লেন্সের অবস্থান খুবই কাছাকাছি। পোট্রেইট বা ক্লুজ আপ শট নেওয়ার সময় ফ্লাশ লাইটের আলো যখন রেটিনা থেকে প্রতিপলিত হয়ে সোজাসুজি লেন্সে চলে আসে তখনই রেটিনার ছবি লাল হয়। এই সমস্যাকে এড়ানোর জন্য Red-Eye Reduction Flash Mode।


১৫। Continuous Shot Function: দ্রুত গতিতে চলমান কোন বস্তু (গাড়ি) বা ব্যক্তির (খেলোয়াড়) ছবি তোলার জন্য Continuous Shooting বা Burst Mode। এই মুডে শাটার বাটন পুরো চাপ দিলে ক্যামেরা পরপর অনেকগুলো ছবির (সিরিজ) শট নেবে এবং সাথে সাথে মেমরিতে সেভ করবে। সেখান থেকে দেখে সবচেয়ে ভালো ছবিটি রেখে বাকীগুলো ডিলিট করতে পারেন। ভালো ক্যামেরায় সিরিজে ছবির সংখ্যা বেশি হয় ও ছবি রেকর্ডের গতি দ্রুত হয়।

১৬। Video with sound: সাউন্ডসহ ভিডিও করার ফিচার। এটা কখনও ভিডিও ক্যামেরার সমতুল্য নয়, শুধু কয়েক মিনিটের ভিডিও ক্লিপ। কোন বিশেষ মুহুর্তকে রেকর্ড করার জন্য প্রয়োজনীয় একটি ফিচার।

১৭। File Format: প্রায় সব ক্যামেরাই তিন ধরনের ফাইল ফরমাট সাপোর্ট করে: JFEG, TIFF এবং RAW। JFEG (ডিফল্ট ফরমাট) কমপ্রেশন ফরমাট অর্থাৎ ফাইলের সাইজ ছোট করার জন্য ছবির অপ্রয়োজনীয় ও কম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দেয়া হয়। TIFF ফরমাটেও কমপ্রেস হয় তবে ছবির কোন তথ্য বাদ দেয় না। ফাইল সাইজ বড় হয়। RAW ফরমাটে কোন কমপ্রেস হয় না, ছবির সম্পুর্ণ ডিজিটাল নেগেটিভ।

১৮। Storage Media: ডিজিটাল ক্যামেরার সাথে যে মামোরি (12 MB - 32 MB) দেয়া হয় তা খুবই অল্প। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে মেমোরি কিনতে হয়। সুতরাং ক্যামেরা কেনার আগে দেখা উচিত কোন ধরনের মেমোরি কার্ড কিনতে হবে। তার দাম কেমন ও সহজলভ্য কিনা। উল্লেখযোগ্য মেমোরি কার্ড CompactFlash, Secure Digital, SDHC, xD Picture, Memory Stick, MicroDrive, and SmartMedia. তবে SD ও SDHC কার্ড হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও সহজলভ্য কার্ড। সাধারণত 2GB - 4GB মেমোরি যথেষ্ট। ছবি পেন ড্রাইভ বা সিডিতে কপি করে মেমোরি খালি করলেই হয়ে যায়। সাধারণত 4GB মেমোরিতে 10 MP ক্যামেরায় JFEG ফরমাটের প্রায় ১১৫০ টি ছবি ও 8 MP ক্যামেরায় ১৪৫০টি ছবি সেভ করা যায়।

১৯। Power Sources: ডিজিটাল ক্যামেরার বহুমুখী ফাংশন ও এলসিডি ডিসপ্রের জন্য যথেষ্ট বিদুৎ প্রয়োজন। সুতরাং রিসার্জেবল ব্যাটারীর কোন বিকল্প নেই। সাধারণত ব্যাটারীর অপশন তিন রকমের হয়ে থাকে।
ক) Lithium Ion ব্যাটারী, এটি ক্যামেরার সাথেই থাকে এবং ক্যামেরাসহ চার্জ করতে হয়। অবিকল মোবাইল ফোনের মত। নতুন ব্যাটারীকে প্রথমবার ৮-১২ ঘন্টা চার্জে রেখে পূর্ণ চার্জ করা ভালো (ম্যানুয়েল দ্রষ্টব্য)। বিভিন্ন ক্যামেরার ব্যাটারীর সাইজ ও মডেল বিভিন্ন রকমের হয়। অনেকদিন ব্যবহারের পর ব্যাটারীর চার্জ বেশিক্ষণ থাকে না। যারা ক্যামেরা নিয়মিত ব্যবহার করেন সম্ভব হলে তাদের একটা রিজার্ভ ব্যাটারী কিনে নেয়া ভালো।
খ) সার্জারসহ Lithium Ion ব্যাটারী, সবকিছু উপরের মতই, শুধু পার্থক্য হচ্ছে আলাদা একটি চার্জার থাকে, ব্যাটারী ক্যামেরা থেকে বের করে এই চার্জারে রেখে চার্জ করতে হয়। সুবিধা হল, একটা এক্সট্রা ব্যাটারী কিনলে একটা স্ট্যান্ড বাই চার্জে রেখে আরেকটা দিয়ে ক্যামেরার কাজ চালানো যায়।
গ) Rechargeble AA NiMh (পেন্সিল ব্যাটারী)। এ অপশনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাটারী ও চার্জার আলাদাভাবে নিজেকে কিনতে হয়। ব্যাটারীর চার্জের ক্ষমতা mAh বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

২০। Interfaces: সব ক্যামেরার সাথে USB ক্যাবল থাকে। অনেক ক্যামেরার সাথে টিভি কানেকটিং কেবল থাকে যাতে ক্যামেরার ছবি সরাসরি টিভিতে দেখা যায়।

২১। Self-timer option: কোন বিশেষ দৃশ্যে বা কোন গ্রুপের সাথে নিজের ছবি তুলতে এই অপশন। ক্যামেরাকে ট্রাইপড বা স্টাবিল কোন কিছুর উপরে রেখে দৃশ্য নির্বাচন করে এই অপশনটি নির্বাচন করে আপনি সেখানে গিয়ে দাড়াঁন। ৫-১০ সেকেন্ড পর ক্যামেরা নিজেই শট নেবে।

২২। Photo Editing Software: সব ক্যামরার সাথে একটি ফ্রি ফটো এডিটিং সফটওয়্যার দেয়া হয়। কোনটা পাওয়ারফুল আবার কোনটা সিম্পল। এই প্রোগ্রাম কমপিউটারে ইনস্টল করে ফটো এডিটের কাজ করা যায়।

২৩। In-Camera Photo Editing: ইদানিং লেটেস্ট মডেলের ক্যামেরায় In-Camera Photo Editing টুলস থাকে। এই টুলস দিয়ে ক্যামেরার ডিসপ্লেতে ছবির বেসিক এডিটিং করা যায়। যেমন: ছবির আলো/কনট্রাস্ট কমানো-বাড়ানো, সাইজ ছোট করা, অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেয়া, ক্লোজ আপ করা ইত্যাদি।

ক্যামেরা কেনার আগে
এক জনের পছন্দ ও প্রায়োরিটির সাথে আরেক জনের মিল নেই। উল্লেখিত ফিচার/ফাংশন দেখে এখন আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন কোন ধরণের ক্যামেরা আপনার দরকার, সে ক্যামেরাতে কি কি ফিচার অবশ্যই থাকা চাই এবং কোন ফিচার থাকলে ভালো, না থাকলেও চলে ইত্যাদি। যারা অনেকদিন ধরে ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে তাদের থেকেও পরামর্শ নিতে পারেন। প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন: মেগাপিক্সেল কত হবে, অপটিক্যাল জুম কত, ডিসপ্লের সাইজ এবং আপনার বাজেট। এরপর পছন্দনীয় ফিচার/ফাংশনগুলোর একটি তালিকা করুন। শুধুমাত্র ব্রান্ডের নাম দেখে পছন্দ করবেন না, ইদানিং লিডিং সব কোম্পানীর ক্যামেরার মানই ভালো। এবার আপনার কাঙ্খিত ক্যামেরাটি নিম্নলিখিত সাইটগুলোতে গিয়ে খুঁজে দেখুন:
১। DigiCam Resource Page
২। Imaging Resource
৩। Digital Camera Info
৪। PriceRunner
এছাড়া ক্যামেরা নির্মাতা কোম্পানীর ওয়েবসাইটে গিয়েও দেখতে পারেন। একেবারে ১০০% আপনার মনের মত পাবেন তেমন কোন নিশ্চয়তা নেই, সেক্ষেত্রে আপনাকে হয়তো কিছুটা আপোষ করতে হবে। যদি কোন ক্যামেরা পছন্দ হয়, ব্রান্ড ও মডেলের পূর্ণনাম ও ফিচারগুলো নোট করুন। বিভিন্ন রিভিউ সাইটে গিয়ে দেখতে পারেন আপনার পছন্দের ক্যামেরা সম্পর্কে এক্সপার্টরা কী বলে। এবার দোকানে গিয়ে ক্যামেরাটি ভালোভাবে দেখে সবকিছু (দাম, সার্ভিস, গ্যারান্টি, প্যাকেজের অন্যান্য উপকরন) পছন্দ হলে কিনে নিন। অভিনন্দন!
বিভিন্ন দোকানের মধ্যে দামের তেমন একটা পার্থক্য হয় না। কয়েকশ টাকা বাচাঁনোর জন্য এমন দোকান থেকে কিনবেন না যেখানে পরে ক্যামেরার কোন সমস্যা নিয়ে গেলে ওরা আপনাকে আর চিনবে না!

ক্যামেরা কেনার পরে
এক্ষেত্রে আমরা সবাই যে ভুলটা করি তা হচ্ছে অদম্য কিউরিসিটি! তাড়াতাড়ি প্যাকেট খুলে জেনে বা না-জেনে বিভিন্ন বাটন বা অপশন নিয়ে টিপাটিপি। তরতাজা নতুন ক্যামেরাটির এখন ল্যাবরেটরির অসহায় গিনিপিগের মত অবস্থা! প্রথমে ক্যামেরার সাথে যা যা থাকার কথা সবকিছু আছে কিনা দেখুন। তারপর ৩০টি মিনিট ধৈর্য ধরে প্যাকেটের ইউজার গাইড / ম্যানুয়েলটি পড়ুন। ইদানিং PDF ফরমাটে সিডিতে ম্যানুয়েল দেয়া হয় যা কমপিউটারে পড়তে হবে। সেখানকার নির্দেশ অনুসারে প্রাথমিক সংযোজন শেষ করে আপনার ক্যামেরার সাথে পরিচিত হউন। কোন বাটন কী কাজ করে ও কোন অপশনটি কোন মেনুতে গেলে পাবেন ইত্যাদি জেনে আপনার প্রিয়তম মানুষটির শট নিয়েই experiment শুরু করুন। ডিজিটাল ক্যামেরার জগতে আপনাকে স্বাগতম!

অটোমুডে ছবি তোলা কমপাক্ট ক্যামেরার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অপশন।
১) ক্যামেরা অন করে অটো মুড নির্বাচন করুন।
২) দৃশ্যের গুরুত্বপূর্ণ বস্তু/ব্যক্তিকে ভিউফাইন্ডার/মনিটরের মাধ্যমে ফোকাস এরিয়াতে (সেন্টার পয়েন্ট) কম্পোজ করুন।
৩) শাটার বাটনকে অর্ধেক (উচ্চতার ৫০%) চাপ দিয়ে এ জায়গায় স্থির রাখুন। ক্যামেরা এখন আপনার নির্বাচিত দৃশ্যের ছবির জন্য প্রোগ্রাম সেটিং করবে। যখন দেখবেন কম্পোজ ফ্রেমের রং পরিবর্তন হয়েছে বা একটা বিপ দিয়েছে, তার অর্থ ক্যামেরা রেডি।
৪) এখন শাটার বাটনের বাকী অর্ধেক চাপ দিন। ক্যামেরা ছবিটি উঠিয়ে মেমোরিতে সেভ করবে। ঠিক এই মুহুর্তে ক্যামেরা একটি বিপ দিতে পারে।
৫) ভিউ/প্লে অপশন নির্বাচন করে ছবিটি মনিটরে দেখতে পারেন।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময় ও অবস্থানের ছবির জন্য সরাসরি প্রি-প্রোগ্রাম সীন মুড থেকে অপশন সিলেক্ট করবেন যদি সে ধরনের মুড থাকে। এতে ক্যামেরার জন্য কম্পোজ করা সহজ হয়।

শেষ কথা
প্রযুক্তির বেলায় শেষ কথা বলতে কিছু নেই। Face Detection, Blink detection, Smart Auto scene selection ইত্যাদি নতুন নতুন ফিচার নিয়ে নতুন মডেলের ক্যামেরা বাজারে আসছে, আসবে। তবে ভালো ছবির ব্যাপারে শেষ কথা হচ্ছে, ভালো ছবি শুধু ক্যামেরার জন্য হয় না, এর জন্য প্রয়োজন ক্যামেরার পিছনে একজন দক্ষ মানুষ। চেষ্টা ও প্রাকটিসই একজন মানুষকে দক্ষ করতে পারে। এজন্য ডিজিটাল ক্যামেরা পারফেক্ট। বিভিন্নভাবে এক্সপেরিমেন্ট করুন, ছবি ভালো না হলে ডিলিট করুন, অতিরিক্ত কোন খরচ নেই। আপনার ক্যামেরায় যেসব ফিচার/ফাংশন আছে সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। ডিজিটাল ক্যামেরা আপনার জীবনের মধুরতম স্মৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তগুলো স্বপ্নীল এলবামে সাজিয়ে রেখে আগামী দিনগুলোকে আরো অর্থময় ও আনন্দময় করুক - এই প্রত্যাশা রেখে লেখাটি শেষ করলাম।

ফটোগ্রাফি টিউটোরিয়াল (বেসিক)
-----------------------------------------------------------